যেভাবে শুরু
প্রায় ১৪৫ বছর আগে হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের রূপপুরের জমিদার স্বর্গীয় শ্রী কৃষ্ণলাল চট্টোপাধ্যায় পারিবারিক বাড়িতে দেবী দুর্গার পূজা শুরু করেন। সেই পূজা আর কখনও থামেনি। আজ তাঁর উত্তরসূরিদের পঞ্চম প্রজন্ম রূপপুর চ্যাটার্জি পাড়ার পৈতৃক দুর্গামন্দিরে সেই পূজা এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
বৈষ্ণব মতের পারিবারিক পূজা
দুর্গাপূজার দুটি ধারা — বৈষ্ণব ও শাক্ত। আমাদের পরিবার বৈষ্ণব মতে পূজা করে। পূজার দশ দিন পরিবারে কঠোরভাবে নিরামিষ আহার চলে; একাদশ দিনে মাছ বা মাংস খেয়ে তা ভাঙা হয়।
প্রতিমা
প্রতি বছর প্রথা মেনেই আমাদের প্রতিমা তৈরি হয়। শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী বা রথযাত্রার পর কাজ শুরু হয় — কাছের নদী থেকে, সম্ভব হলে গঙ্গা থেকে, পবিত্র মাটি সংগ্রহ করে তাতে মেশানো হয় গোবর, গোমূত্র, ধানের তুষ ও পতিতালয়ের দোরগোড়ার মাটি। বাঁশ-খড়ের কাঠামোয় দু'প্রস্থ মাটি চাপিয়ে প্রাকৃতিক রঙে রাঙিয়ে প্রতিমাকে পরানো হয় বেনারসি শাড়ি, গয়না আর ডাকের সাজ।
পরিবারের হাতে তৈরি নৈবেদ্য
পরিবারের সদস্যদের হাতে তৈরি জিনিস ছাড়া দেবীকে কিছুই নিবেদন করা হয় না — মহালয়ায় তৈরি চিনি ও গুড়ের নারকেল নাড়ু; সপ্তমী থেকে নবমী প্রতিদিন আলাদা খিচুড়ি; মোচার ঘণ্ট; সন্ধিপূজায় ছানা; আর রাতে লুচি ও নারকেল নাড়ু।
যে রীতি আমাদের আলাদা করে
- দশমীর সকালে পরিবারের পুরুষেরা বাহুতে অপরাজিতা লতা বাঁধেন, আর শিশুদের কবজিতেও তা বাঁধা হয় সুরক্ষার জন্য।
- বিসর্জনের পর বেলকাঠি দিয়ে আলতায় কলাপাতায় "শ্রীশ্রী দুর্গা মাতা সহায়" লিখে দেবীর বেদিতে রাখা হয়।
- নবমীতে কুমারী পূজা হয়।
প্রতিটি আচারের দিনভিত্তিক বিবরণ পড়ুন আমাদের আচার পাতায়।
দুর্গামন্দির
রূপপুর চ্যাটার্জি পাড়ায় পরিবারের পুরনো দুর্গামন্দিরে পূজা হয়। দর্শনার্থীরা প্রায়ই মন্দিরের প্রাচীনতা, কারুকাজ আর শান্ত পরিবেশের কথা বলেন।

পূর্ণ ইতিহাস লিখতে আমাদের সাহায্য করুন
পূজার পুরনো ছবি, চিঠি বা স্মৃতি আছে? আমাদের ফেসবুক পেজে পাঠান — আমরা সেগুলি এখানে যোগ করতে চাই।