দুর্গাপূজার সব মুহূর্তের মধ্যে সন্ধিপূজার মতো আবেগঘন আর কিছু নেই। এর স্থায়িত্ব মাত্র ৪৮ মিনিট — অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট আর নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট। পঞ্জিকা দেখে মিনিট ধরে এর সময় নির্ধারিত হয়।
পিছনের কাহিনি
পুরাণ অনুযায়ী, মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধের সময় চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুর মা দুর্গাকে আক্রমণ করে। তখন দেবীর কপাল থেকে আবির্ভূতা হন ভয়ংকরী চামুণ্ডা, এবং অষ্টমী ও নবমীর ঠিক সন্ধিক্ষণে তাদের বধ করেন। সন্ধিপূজা সেই মুহূর্তেরই আরাধনা।
১০৮টি পদ্ম, ১০৮টি প্রদীপ
আমাদের দুর্গামন্দিরে পরিবার কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নেয়:
- ১০৮টি পদ্ম সংগ্রহ করে, পরিষ্কার করে গোনা হয় — প্রায়ই একাধিকবার।
- প্রতিমার সামনে সারি দিয়ে সাজানো হয় ১০৮টি মাটির প্রদীপ।
- সন্ধিক্ষণ শুরু হতেই পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে একে একে প্রদীপ জ্বালানো হয়।
যে ঢাক কয়েকদিন ধরে অবিরাম বেজে চলেছে, সন্ধিক্ষণের শুরুতে তা থেমে যায়। পূজা শেষ হতেই আবার গর্জে ওঠে।
দর্শনার্থীদের জন্য কিছু কথা
- সঠিক সময় দেখে নিন আমাদের ‘পূজা ২০২৬’ পাতায় — প্রতি বছর তা বদলায়।
- অন্তত ৩০ মিনিট আগে পৌঁছন; প্রাঙ্গণ তাড়াতাড়ি ভরে যায়।
- সন্ধিপূজার সময় ছবি তোলা নিষেধ।
আমাদের পরিবারের অনেকের কাছে ওই ৪৮ মিনিট — প্রদীপের আলো, নীরবতা, তারপর ঢাকের বোল — প্রতি বছর বাড়ি ফেরার আসল কারণ।


