দুর্গাপূজা ২০২৬: মহাষষ্ঠী ১৬ অক্টোবর · সন্ধিপূজা ১৯ অক্টোবর সকাল ৭:২৬–৮:১৪।

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · পঞ্জিকা, দুর্গাপূজা ২০২৬

অধিক মাস বা পুরুষোত্তম মাস: পুজোর তারিখ কেন সরে

অধিক মাস বা পুরুষোত্তম মাস কী, প্রায় তিন বছর অন্তর পঞ্জিকায় কেন একটি বাড়তি মাস যোগ হয়, আর কেন এ বছর পুজো অক্টোবরের মাঝামাঝি, অথচ আগামী বছর এগারো দিন এগিয়ে।

প্রচলিত বাংলা পঞ্জিকার প্রচ্ছদ, রাশিচক্রের মাঝে গণেশ
অলংকরণ: Bhargav Chowdhury, CC0, উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে (চওড়া পটভূমিতে বসানো)

প্রতি বছরই কেউ না কেউ জিজ্ঞেস করেন — এক বছর পুজো সেপ্টেম্বরের শেষে, আবার অন্য বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি কেন? উত্তর লুকিয়ে আছে পঞ্জিকার সময় গোনার পদ্ধতিতে, আর অধিক মাস নামের এক বাড়তি মাসে — যাকে বলা হয় পুরুষোত্তম মাস। এ বছরের পঞ্জিকায় তেমনই একটি মাস রয়েছে।

বছর গোনার দুই হিসেব

আমাদের উৎসব চলে চাঁদের হিসেবে। দুর্গাপূজা চান্দ্র পঞ্জিকা মেনে হয় — আশ্বিনের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে। কিন্তু ঋতু চলে সূর্যের হিসেবে।

বারোটি চান্দ্রমাস মিলে হয় মোটামুটি ৩৫৪ দিন — প্রায় ৩৬৫ দিনের সৌরবছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন কম। এর কোনো সংশোধন না থাকলে পুজো প্রতি বছর ১১ দিন করে এগিয়ে আসত, আর কয়েক দশকেই শরৎ ছেড়ে চলে যেত বর্ষায়, তারপর গ্রীষ্মে।

এক চান্দ্রমাসে চাঁদের কলার ছবি
অমাবস্যা থেকে অমাবস্যা, একটি চান্দ্রমাস প্রায় সাড়ে ঊনত্রিশ দিনের; এমন বারোটি মাস সৌরবছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন ছোট। চিত্র: Orion 8, CC BY-SA 3.0, উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে (আকার ছোট করা)

বাড়তি মাস

এই সরে যাওয়া আটকাতে মোটামুটি তিন বছরে একবার পঞ্জিকায় একটি বাড়তি চান্দ্রমাস যোগ করা হয়। এটিই অধিক মাস — ‘অধিক’ মানে বাড়তি।

কোন মাস অধিক হবে, তা ঠিক করে সূর্য। সাধারণত প্রতিটি চান্দ্রমাসে সূর্য একটি রাশি থেকে পরের রাশিতে যায় — তাকে বলে সংক্রান্তি। কখনো কখনো গোটা একটি চান্দ্রমাস কোনো সংক্রান্তি ছাড়াই কেটে যায়। সেই মাসটিকেই ধরা হয় বাড়তি মাস, আর তার নাম হয় পরের মাসের নামে, সামনে ‘অধিক’ জুড়ে।

বাড়তি মাস বলে পুরুষোত্তম মাসে অনেক পরিবার বিয়ের মতো শুভ অনুষ্ঠান করেন না।

পুজোর উপর তার প্রভাব

যে বছর অধিক মাস থাকে, তার পরের উৎসবগুলি আগের বছরের চেয়ে দেরিতে পড়ে। তাই এ বছর দুর্গাপূজা অক্টোবরের মাঝামাঝি — মহালয়া ১০ অক্টোবর, আর মহাষষ্ঠী ১৬ অক্টোবর ২০২৬।

আগামী বছর বাড়তি মাস নেই, তাই আবার সেই স্বাভাবিক এগিয়ে আসা। আমাদের ২০২৭-এর নির্ঘণ্টে ইতিমধ্যেই মহাষষ্ঠী ৫ অক্টোবর ২০২৭ — ঠিক এগারো দিন আগে। পরের অধিক মাস না আসা পর্যন্ত পুজো এভাবেই বছর বছর একটু করে এগিয়ে আসবে।

পঞ্জিকাই শেষ কথা

রাজস্থানের কাপড়ে আঁকা হিন্দু পঞ্জিকা, ১৮৭১–৭২
ছাপা পঞ্জিকার অনেক আগে এমন পঞ্জিকাই ঠিক করত প্রতিটি উৎসবের দিন; এটি রাজস্থানে কাপড়ে আঁকা, ১৮৭১–৭২ সালের। ছবি: পাবলিক ডোমেইন, উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে

সাবেকি পারিবারিক পুজোয় এই তারিখ কারও ইচ্ছেমতো ঠিক হয় না। পুরোহিত মিনিট ধরে পঞ্জিকা মেনে চলেন — যেমন আমাদের দুর্গাপূজা ২০২৬-এর নির্ঘণ্ট। অধিক মাস আসলে পঞ্জিকার সেই উপায়, যাতে মা প্রতি বছর শরতেই, কাশফুল ফোটার দিনে, ঘরে ফেরেন।

আরও পড়ুন

· আচার

দুর্গাপূজা: ছবি ও কথায়

রূপপুরে আমাদের বাড়ির দুর্গাপূজার প্রত্যক্ষ বিবরণ — প্রতিমা নির্মাণ ও মহালয়া থেকে সন্ধিপূজা, কুমারী পূজা, দর্পণ বিসর্জন, আর চট্টোপাধ্যায় পরিবারের নিজস্ব রীতি।

লিখেছেন সাত্যকি চ্যাটার্জি

· পঞ্জিকা

এ বছর মহাসপ্তমী দু'দিন কেন

এ বছর পঞ্জিকায় মহাসপ্তমী দু'দিন — ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ২০২৬। তিথি কীভাবে গোনা হয়, একটি তিথি কেন দুটি সূর্যোদয় ছুঁয়ে যায়, আর দ্বিতীয় দিনের সপ্তমীর অধিক পূজা মানে কী — সহজ করে।

লিখেছেন রূপপুর চ্যাটার্জি বাড়ি পরিবার

খুঁজে দেখুন: “সন্ধিপূজা”, “ভোগ” বা “২০২৬”