আমাদের দুর্গাপূজা ২০২৬-এর নির্ঘণ্টে চোখ রাখলে একটা অন্যরকম ব্যাপার চোখে পড়বে — মহাসপ্তমী দু'বার, শনিবার ১৭ অক্টোবর আর রবিবার ১৮ অক্টোবর। এটা ভুল নয়। সরাসরি পঞ্জিকা থেকেই এসেছে, আর এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুজোর দিন গোনার নিয়ম।
পুজোর দিন মানে তিথি, তারিখ নয়
ক্যালেন্ডারের তারিখ চলে মধ্যরাত থেকে মধ্যরাত। পুজোর দিন তা নয় — দুর্গাপূজার দিনগুলি চলে তিথি, অর্থাৎ চান্দ্রদিন ধরে।
সূর্যের থেকে চাঁদের আরও ১২ ডিগ্রি সরে যেতে যে সময় লাগে, সেটাই একটি তিথি। চাঁদের গতি সবসময় সমান নয়, তাই সব তিথির দৈর্ঘ্যও সমান নয় — কোনোটি প্রায় ২০ ঘণ্টা, কোনোটি প্রায় ২৭ ঘণ্টা। তিথি শুরুও হতে পারে দিনে-রাতে যেকোনো সময়ে।
সূর্যোদয়ের নিয়ম
পুজোর জন্য পঞ্জিকা দেখে, সূর্যোদয়ের মুহূর্তে কোন তিথি চলছে। সূর্যোদয়ের তিথিই সেই দিনের পরিচয়।
সাধারণত প্রতিটি সূর্যোদয়ে নতুন তিথি। কিন্তু তিথি দীর্ঘ হলে, আর এক সূর্যোদয়ের কিছু আগে শুরু হলে, পরের সূর্যোদয়েও তা থেকে যেতে পারে। তখন দু'দিনের সূর্যোদয়ে একই তিথি — পঞ্জিকা দু'দিনকেই সেই তিথি বলে ধরে।
এ বছর ঠিক তাই হয়েছে। আমাদের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী ষষ্ঠী তিথি শেষ রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে, অর্থাৎ ১৭ অক্টোবরের সূর্যোদয়ের আগেই সপ্তমী শুরু। আর সেই সপ্তমী এতটাই দীর্ঘ যে ১৮ অক্টোবরের সূর্যোদয়েও তা রয়ে গেছে। তাই পঞ্জিকা মতে দু'দিনই সপ্তমী।
উল্টোটাও হয়। ছোট তিথি এক সূর্যোদয়ের পরে শুরু হয়ে পরের সূর্যোদয়ের আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে — কোনো সূর্যোদয়ই না ছুঁয়ে। তখন দুটি পুজো একই দিনে পড়তে পারে।
দ্বিতীয় দিনে কী হয়
১৭ অক্টোবর সকাল ৭টা ৪ মিনিটের পরে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, তারপর সপ্তমী বিহিত পূজা।
১৮ অক্টোবর নির্ঘণ্টে আলাদা সময় দেওয়া আছে — সকাল ৬টা ৪৩ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৫৩ মিনিটের মধ্যে সপ্তমীর অধিক পূজা। ‘অধিক’ মানে বাড়তি — তিথি চলছে বলে সপ্তমীর দ্বিতীয়বার পূজা। তারপর ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, সকাল ৭টা ২৬ থেকে ৮টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত সন্ধিপূজা।
দর্শনার্থীদের কাছে এর অর্থ সহজ — এ বছর পুজোয় একটা দিন বেশি। মহাষষ্ঠী ১৬ অক্টোবর থেকে বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।


